• বৃহঃস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সাথে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাদের বিশ্বাসঘাতকতা

জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সাথে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাদের বিশ্বাসঘাতকতা

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

বৃহঃস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

জুলাই অভ্যুত্থান ছাত্র-তরুণ এবং জনগণের মাঝে সমাজ পরিবর্তনের নতুন আকাঙ্ক্ষার জন্ম দেয়। সে আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি বৈষম্যহীন শিক্ষা-ব্যবস্থা, বেকারত্ব-মুক্ত সমাজ, জনগণের উপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের অবসান, নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা্, সকল জাতি ও জাতিসত্তার সমতা ও সমঅধিকার, ভারত ও সাম্রাজ্যবাদ মুক্ত একটি প্রকৃত স্বাধীন সমাজ, একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ-ব্যবস্থা– ইত্যাদি। কিন্তু ছাত্র-জনতার এসব আকাঙ্ক্ষার সাথে বিশ্বঘাতকতা করে ছাত্র উপদেষ্টাদের মদদে নয়া বন্দোবস্তের নামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতাদের একাংশ নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে শুরু করে। ‘বিপ্লব’ দ্বিতীয় ‘স্বাধীনতা’, ‘নতুন বন্দোবস্ত’– ইত্যাদি বুলির আড়ালে তারা মূলত বুর্জোয়া রাজনীতির ধারক-বাহক হয়ে উঠে। বিপ্লব বা নতুন বন্দোবস্ত বলতে তারা ’৭২-এর সংবিধান বা বুর্জোয়া রাষ্ট্রকাঠামোতে সংস্কার বুঝে। যেখানে শ্রমিক-কৃষক-আদিবাসী-নারীসহ নিপীড়িত জনগণের বিপ্লবী কর্মীসূচির কোনো স্থান ছিল না। জাতীয় নাগরিক পার্টিরও তেমন কোনো কর্মসূচি ছিল না এবং এখনও নেই।

অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর পরই শাসকশ্রেণির ‘তৃতীয় শক্তি’র পক্ষ থেকে “ছাত্র রাজনীতি বন্ধ” করার ষড়যন্ত্র করলেও ছাত্র নেতৃত্বদের ক্ষমতালিপ্সু অংশ সুস্থ ধারার ছাত্র রাজনীতির বিকাশের পথকে বাধামুক্ত করার জোরালো দাবির পরিবর্তে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষেই নানানভাবে অবস্থান নেয়। বরং তারা জুলাই গণহত্যার বিচার, রাষ্ট্রের সংস্কার, নতুন সংবিধান প্রণয়নের নামে, মূলত সংস্কারের জন্য সংবিধান সভা নির্বাচনের পক্ষে জনমত তৈরিতে ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’ নামে একটি প্লাটফর্ম দাঁড় করায়। একে তারা অরাজনৈতিক বললেও কার্যত রাজনৈতিক প্লাটফর্মই দাঁড় করায়। এবং বলে শুধু জুলাই অভ্যুত্থানের জনআকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নে সংগ্রাম করাই তাদের লক্ষ্য। রাজনৈতিক পার্টি গড়ার ইচ্ছা তাদের নেই– ইত্যাদি।

কিন্তু অল্প কিছু দিন পার না হতেই তারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে, রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে রাজনৈতিক দল (কিংস পার্টি) গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে। ফেব্রুয়ারি’২৫-এ ছাত্র-উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করেন। এবং মাত্র ২/৩ দিন পরেই তাকে প্রধান করেই রাজনৈতিক দল “জাতীয় নাগরিক পার্টি” গঠন করা হয়। তাদের আরো দু’জন নেতাকে অবশ্য সরকারে রেখে দেয়া হয় সব দিক দেখার জন্য। এটা যে ছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তৃতীয় শক্তির কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য একটি কিংস পার্টি তা সৎ মানুষ মাত্রেই স্বীকার করেন। এসব ছিল শাসকশ্রেণির দালালে পরিণত হওয়া এবং ছিল ছাত্র-জনতার সাথে স্রেফ প্রতারণার সামিল। সাম্য, ন্যায়বিচার, সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করে দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র বাস্তবায়ন করাই নাকি এই পার্টির লক্ষ্য। তারা দাবি করেছে তারা বামপন্থিও না, ডানপন্থিও না, তারা হচ্ছেন মধ্যপন্থি। বহুত্ববাদই তাদের আদর্শ। এসব বক্তব্যের মধ্যে কোনো বিপ্লবী অবস্থান ও কর্মসূচি ছিল না এবং নেই। বরং পশ্চিমা বুর্জোয়া রাজনীতির একটা ভার্সান হিসেবেই তা প্রকাশিত হয়েছিল এবং তাদের বুর্জোয়াশ্রেণির রাজনৈতিক চরিত্রই প্রকাশিত হয়েছিল। তারা বলেছিল তারা ভারত-পন্থি নয়, পাকিস্তান-পন্থিও নয়। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদ প্রশ্নে কোনো বক্তব্যই তাদের ছিল না এবং নেই। তাই তারা ইউনূসের মতো পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের অতিপ্রিয় একজন দালাল ব্যক্তিকে ডেকে এনে সরকার গঠন করেছিল। তারা প্রমাণ করেছে তারা সাম্রাজ্যবাদ-পন্থি, বিশেষত মার্কিন-পন্থি।

তারা কিছু কিছু নিরাপদ বিপ্লবী বুলি আওড়ালেও তাদের লক্ষ্য ছিল পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের অনুমোদিত একটি বুর্জোয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা এবং যেকোনো মূল্যে চলমান রাষ্ট্র ক্ষমতার অংশীদার হওয়া। পারলে সরকার গঠন করা বা অন্তত প্রধান বিরোধী দল হওয়া। শেষ পর্যন্ত তারা সেটাই করেছে।

তাদের সংস্কারের নামে নির্বাচন পেছানোর দাবি ছিল মূলত নিজেদের দল গুছানোর সময়ক্ষেপণ মাত্র। তারা দাবি করেছিল তারা সরকারের অংশ নয়, স্বতন্ত্র একটি পার্টি। কিন্তু বাস্তবচিত্র ছিল ভিন্ন। সরকার-প্রশাসনের সাথে লিঁয়াজো করেই তারা অগ্রসর হয়েছে। তাদের রমরমা অর্থের ব্যবহার দেখে জনগণের প্রশ্নের মুখে নাহিদ ইসলাম বলেছেন ধনী ব্যক্তিরা তাদের অর্থায়ন করে। এই ধনী ব্যক্তিরাই আওয়ামী লীগ, বিএনপি. জামাত, জাতীয় পার্টিকেও অর্থ দিয়ে ধনীশ্রেণির সেবক তৈরি করেছে। এখন এনসিপিও ধনীদের অর্থ নিয়ে ধনীশ্রেণির স্বার্থ-দেখা পার্টি হিসেবেই নিজেদের প্রমাণ করেছে। দুর্নীতির অভিযোগগুলো বাদ দিলেও শুধু তাদের আলিশান অফিসটিও তাদের এ চরিত্রকে প্রমাণ করে। কে দেয় এমন বিশাল অফিসের অর্থ, আর কেনই-বা দেয়?

তারা ’২৪-এর গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ও বিচারের দাবি করছে। অথচ তারা ’৭১-এর গণহত্যাকারী জামাত-শিবিরের বিচার ও তাদের নিষিদ্ধের দাবি না তুলে বরং পুনর্বাসন এবং বহুত্ববাদের নামে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদকে বিকশিত করার সুযোগ তৈরি করেছে। “জাতীয় নাগরিক পার্টি”তেও ছাত্রলীগ এবং শিবিরকে পুনর্বাসন করেছে। শেষ পর্যন্ত ’৭১-এর গণহত্যাকারী রাজাকার এবং ধর্মবাদী দলগুলোর সাথে নির্বাচনী জোট করে নির্বাচন করেছে। এর প্রতিবাদে তাদের দল থেকে বহু নারী কর্মীসহ অন্তত ৩০ জন নেতা-কর্মী পদত্যাগ করে তাদের ধিক্কার জানিয়েছেন। জামাতের ভোটে তারা মাত্র ৬টি আসন পেয়ে বুর্জোয়া সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসেছে। কোথায় গেল তাদের ‘বিপ্লব’ বা ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’র বোলচাল। এভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি বিপ্লবী বুলির আড়ালে জুলাই অভ্যুত্থান ও জনগণের সাথে বিশ্বাঘাতকতা করেছে। আপাতত তারা রাজাকার ধর্মবাদী ফ্যাসিস্ট জামাতের বি-টিম হিসেবে কাজ করছে। তবে তারা সাম্রাজ্যবাদের আশীর্বাদ-ধন্য শাসক বুর্জোয়া শ্রেণির একটি বড়ো পার্টি হিসেবে দাঁড় হতে চায়। এজন্য যত রকমের প্রতারণা, দালালি, অনৈতিকতা সম্ভব তারা করছে। বিপ্লবমনা ছাত্র-তরুণদের উচিত হচ্ছে এদের সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং এদের মোহ থেকে নিজেদের মুক্ত করা।

জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সাথে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাদের বিশ্বাসঘাতকতা

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
বৃহঃস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

জুলাই অভ্যুত্থান ছাত্র-তরুণ এবং জনগণের মাঝে সমাজ পরিবর্তনের নতুন আকাঙ্ক্ষার জন্ম দেয়। সে আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি বৈষম্যহীন শিক্ষা-ব্যবস্থা, বেকারত্ব-মুক্ত সমাজ, জনগণের উপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের অবসান, নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা্, সকল জাতি ও জাতিসত্তার সমতা ও সমঅধিকার, ভারত ও সাম্রাজ্যবাদ মুক্ত একটি প্রকৃত স্বাধীন সমাজ, একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ-ব্যবস্থা– ইত্যাদি। কিন্তু ছাত্র-জনতার এসব আকাঙ্ক্ষার সাথে বিশ্বঘাতকতা করে ছাত্র উপদেষ্টাদের মদদে নয়া বন্দোবস্তের নামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতাদের একাংশ নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে শুরু করে। ‘বিপ্লব’ দ্বিতীয় ‘স্বাধীনতা’, ‘নতুন বন্দোবস্ত’– ইত্যাদি বুলির আড়ালে তারা মূলত বুর্জোয়া রাজনীতির ধারক-বাহক হয়ে উঠে। বিপ্লব বা নতুন বন্দোবস্ত বলতে তারা ’৭২-এর সংবিধান বা বুর্জোয়া রাষ্ট্রকাঠামোতে সংস্কার বুঝে। যেখানে শ্রমিক-কৃষক-আদিবাসী-নারীসহ নিপীড়িত জনগণের বিপ্লবী কর্মীসূচির কোনো স্থান ছিল না। জাতীয় নাগরিক পার্টিরও তেমন কোনো কর্মসূচি ছিল না এবং এখনও নেই।

অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর পরই শাসকশ্রেণির ‘তৃতীয় শক্তি’র পক্ষ থেকে “ছাত্র রাজনীতি বন্ধ” করার ষড়যন্ত্র করলেও ছাত্র নেতৃত্বদের ক্ষমতালিপ্সু অংশ সুস্থ ধারার ছাত্র রাজনীতির বিকাশের পথকে বাধামুক্ত করার জোরালো দাবির পরিবর্তে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষেই নানানভাবে অবস্থান নেয়। বরং তারা জুলাই গণহত্যার বিচার, রাষ্ট্রের সংস্কার, নতুন সংবিধান প্রণয়নের নামে, মূলত সংস্কারের জন্য সংবিধান সভা নির্বাচনের পক্ষে জনমত তৈরিতে ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’ নামে একটি প্লাটফর্ম দাঁড় করায়। একে তারা অরাজনৈতিক বললেও কার্যত রাজনৈতিক প্লাটফর্মই দাঁড় করায়। এবং বলে শুধু জুলাই অভ্যুত্থানের জনআকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নে সংগ্রাম করাই তাদের লক্ষ্য। রাজনৈতিক পার্টি গড়ার ইচ্ছা তাদের নেই– ইত্যাদি।

কিন্তু অল্প কিছু দিন পার না হতেই তারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে, রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে রাজনৈতিক দল (কিংস পার্টি) গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে। ফেব্রুয়ারি’২৫-এ ছাত্র-উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করেন। এবং মাত্র ২/৩ দিন পরেই তাকে প্রধান করেই রাজনৈতিক দল “জাতীয় নাগরিক পার্টি” গঠন করা হয়। তাদের আরো দু’জন নেতাকে অবশ্য সরকারে রেখে দেয়া হয় সব দিক দেখার জন্য। এটা যে ছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তৃতীয় শক্তির কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য একটি কিংস পার্টি তা সৎ মানুষ মাত্রেই স্বীকার করেন। এসব ছিল শাসকশ্রেণির দালালে পরিণত হওয়া এবং ছিল ছাত্র-জনতার সাথে স্রেফ প্রতারণার সামিল। সাম্য, ন্যায়বিচার, সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করে দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র বাস্তবায়ন করাই নাকি এই পার্টির লক্ষ্য। তারা দাবি করেছে তারা বামপন্থিও না, ডানপন্থিও না, তারা হচ্ছেন মধ্যপন্থি। বহুত্ববাদই তাদের আদর্শ। এসব বক্তব্যের মধ্যে কোনো বিপ্লবী অবস্থান ও কর্মসূচি ছিল না এবং নেই। বরং পশ্চিমা বুর্জোয়া রাজনীতির একটা ভার্সান হিসেবেই তা প্রকাশিত হয়েছিল এবং তাদের বুর্জোয়াশ্রেণির রাজনৈতিক চরিত্রই প্রকাশিত হয়েছিল। তারা বলেছিল তারা ভারত-পন্থি নয়, পাকিস্তান-পন্থিও নয়। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদ প্রশ্নে কোনো বক্তব্যই তাদের ছিল না এবং নেই। তাই তারা ইউনূসের মতো পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের অতিপ্রিয় একজন দালাল ব্যক্তিকে ডেকে এনে সরকার গঠন করেছিল। তারা প্রমাণ করেছে তারা সাম্রাজ্যবাদ-পন্থি, বিশেষত মার্কিন-পন্থি।

তারা কিছু কিছু নিরাপদ বিপ্লবী বুলি আওড়ালেও তাদের লক্ষ্য ছিল পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের অনুমোদিত একটি বুর্জোয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা এবং যেকোনো মূল্যে চলমান রাষ্ট্র ক্ষমতার অংশীদার হওয়া। পারলে সরকার গঠন করা বা অন্তত প্রধান বিরোধী দল হওয়া। শেষ পর্যন্ত তারা সেটাই করেছে।

তাদের সংস্কারের নামে নির্বাচন পেছানোর দাবি ছিল মূলত নিজেদের দল গুছানোর সময়ক্ষেপণ মাত্র। তারা দাবি করেছিল তারা সরকারের অংশ নয়, স্বতন্ত্র একটি পার্টি। কিন্তু বাস্তবচিত্র ছিল ভিন্ন। সরকার-প্রশাসনের সাথে লিঁয়াজো করেই তারা অগ্রসর হয়েছে। তাদের রমরমা অর্থের ব্যবহার দেখে জনগণের প্রশ্নের মুখে নাহিদ ইসলাম বলেছেন ধনী ব্যক্তিরা তাদের অর্থায়ন করে। এই ধনী ব্যক্তিরাই আওয়ামী লীগ, বিএনপি. জামাত, জাতীয় পার্টিকেও অর্থ দিয়ে ধনীশ্রেণির সেবক তৈরি করেছে। এখন এনসিপিও ধনীদের অর্থ নিয়ে ধনীশ্রেণির স্বার্থ-দেখা পার্টি হিসেবেই নিজেদের প্রমাণ করেছে। দুর্নীতির অভিযোগগুলো বাদ দিলেও শুধু তাদের আলিশান অফিসটিও তাদের এ চরিত্রকে প্রমাণ করে। কে দেয় এমন বিশাল অফিসের অর্থ, আর কেনই-বা দেয়?

তারা ’২৪-এর গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ও বিচারের দাবি করছে। অথচ তারা ’৭১-এর গণহত্যাকারী জামাত-শিবিরের বিচার ও তাদের নিষিদ্ধের দাবি না তুলে বরং পুনর্বাসন এবং বহুত্ববাদের নামে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদকে বিকশিত করার সুযোগ তৈরি করেছে। “জাতীয় নাগরিক পার্টি”তেও ছাত্রলীগ এবং শিবিরকে পুনর্বাসন করেছে। শেষ পর্যন্ত ’৭১-এর গণহত্যাকারী রাজাকার এবং ধর্মবাদী দলগুলোর সাথে নির্বাচনী জোট করে নির্বাচন করেছে। এর প্রতিবাদে তাদের দল থেকে বহু নারী কর্মীসহ অন্তত ৩০ জন নেতা-কর্মী পদত্যাগ করে তাদের ধিক্কার জানিয়েছেন। জামাতের ভোটে তারা মাত্র ৬টি আসন পেয়ে বুর্জোয়া সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসেছে। কোথায় গেল তাদের ‘বিপ্লব’ বা ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’র বোলচাল। এভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি বিপ্লবী বুলির আড়ালে জুলাই অভ্যুত্থান ও জনগণের সাথে বিশ্বাঘাতকতা করেছে। আপাতত তারা রাজাকার ধর্মবাদী ফ্যাসিস্ট জামাতের বি-টিম হিসেবে কাজ করছে। তবে তারা সাম্রাজ্যবাদের আশীর্বাদ-ধন্য শাসক বুর্জোয়া শ্রেণির একটি বড়ো পার্টি হিসেবে দাঁড় হতে চায়। এজন্য যত রকমের প্রতারণা, দালালি, অনৈতিকতা সম্ভব তারা করছে। বিপ্লবমনা ছাত্র-তরুণদের উচিত হচ্ছে এদের সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং এদের মোহ থেকে নিজেদের মুক্ত করা।

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র